উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা

জলচিত্র অনলাইন ডেক্স:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ওয়াদা পূরণ করি, আগামীতেও করবো।’

শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভোট চেয়ে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন, আমরা প্রতিটি গ্রামকে নগর-শহরে উন্নীত করে দেবো। গ্রামে বসেই প্রতিটি মানুষ পাবে নগরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। আমরা ওয়াদা পূরণ করি, আগামীতেও করবো।’

স্থানীয় ভোটারদের দোয়া-আশীর্বাদ প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হাত তুলে দেখান, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’ এ সময় মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ হাত তুলে শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়েছি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে শুধু একটা উদ্দেশ্যে ফিরে এসেছি। সেটা এদেশের, এদেশের মানুষের সেবা করার জন্য।’

মহাজোট ও চার দলীয় জোট আমলের তুলনা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ চায় জনগণের কল্যাণ, আওয়ামী লীগ চায় দেশের কল্যাণ। আমরা ক্ষমতায় এলে মানুষের কল্যাণে কাজ করি।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কাজই হলো লুটপাট, দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ।’

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আমরা সরকার গঠন করে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারছি। আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদক একটা পরিবার-সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ একটা দেশ, একটা সমাজ, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের স্থান নেই।’

সন্তানদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখার নির্দেশনা দিয়ে বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক, ‘ইমাম সবার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই সর্তক থাকুন। সন্তান কোথায় যায়, কী করে খোঁজ রাখবেন। সবাই এক হয়ে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করুন।’

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিক মাহমুদ চৌধুরী এমপি, আল মাহমুদ স্বপন, পাবনা-১ আসনের এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, আবুল কালাম আজাদ, চন্দন কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থল থেকে পাবনার ৩১টি কাজের উদ্বোধন এবং ১৮ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল, পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস, ঈশ্বরদী থানা ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, সলিমপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর ওপর ‘নারায়ণপুর সেতু’, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গোমানী নদীর ওপর ‘নৌবাড়িয়া সেতু’, ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, চাটমোহর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সিটি কলেজ, পাবনার একাডেমিক ভবন, দেবত্তোর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন, খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন, চাটমোহর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন, বোনকোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সুজানগরের একাডেমিক ভবন; সুজানগর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন, শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়ার একাডেমিক ভবন, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রশাসনিক ভবন, ডেঙ্গারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়ার একাডেমিক ভবন, আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চাটমোহর উপজেলায় গোমানী নদীর ওপর ‘নিমাইচড়া সেতু’, চাটমোহর উপজেলায় ‘কাটাখাল সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় আত্রাই নদীর ওপর ‘আত্রাই সেতু’; সুজানগর উপজেলায় ‘ধোলাইখাল সেতু’; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ভাঙ্গুড়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, চাটমোহর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ফরিদপুর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ঈশ্বরদী; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, আটঘরিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সাঁথিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা সুজানগর।

এছাড়া তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ; জেলা সদরে ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল; সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; পুলিশ লাইন্স মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবন; সুজানগর উপজেলায় সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও আটঘরিয়া উপজেলায় হাদল ইউনিয়ন ভূমি অফিস; পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; জেলা শিল্পকলা একাডেমি; সাঁথিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; আদর্শ মহিলা কলেজ, পাবনা এর একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; বেড়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ; সাঁথিয়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার নির্মাণ; ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।