জলঢাকায় যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে : 4 ঘণ্টা রাস্তায় এমপি

আবেদ আলী, স্টাফ রির্পোটার ঃ  নীলফামারীর জলঢাকায় যুবলীগ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে গ্রেফতারের দাবীতে ৩ ঘন্টা সড়কে অবস্থান করে স্থানীয় সংসদ সদস্য সমর্থকরা। এসময় ওই যুবলীগ নেতাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান তারা। নীলফামারী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, যুবলীগ নেতা ওয়াহেদ বাহাদুর তাকে ‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত’ করেছেন। এই জন্য এমপি গোলাম মোস্তফা ও তার সমর্থকরা জলঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্ত¡রের (ট্রাফিক মোড়) উপর অবস্থান নিয়ে থাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জলঢাকা রংপুর, নীলফামারী, ডোমার, ডিমলা ও পঞ্চগড় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপির মুঠোফোনের আশ্বাসে গোলাম মোস্তফার সমর্থকরা রাস্তা ছাড়লে ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জলঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে উম্মুক্ত আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠ আসর আয়োজন করেছিল সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের উপজেলা কমিটি। আলোচনায় স্থানীয় সাংসদের বক্তব্যের শেষদিকে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর কথা বলতে থাকেন। সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বক্তব্য শেষ করে তার গাড়ীতে উঠতে গেলে বাহাদুর সমর্থকরা এমপিকে গতিরোধ করে লাঞ্ছিত করে। এসময় সাংসদের সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে শুরু হয় উত্তেজনা। এ উত্তেজনায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সমাপ্ত ঘোষণা করেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা ওয়াহেদ বাহাদুরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে জলঢাকা বঙ্গবন্ধু চত্ত¡র (ট্রাফিক মোড়) গিয়ে অবস্থান নেন সাংসদ ও তার সমর্থকরা। আশপাশে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ফোন করে সাংসদ গোলাম মোস্তফাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে গোলাম মোস্তফা তার সমর্থকদের নিয়ে সরে যান। অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জানান, “সুন্দরগঞ্জের প্রয়াত এমপি লিটনের ওপর যেভাবে আঘাত করা হয়েছিল, হামলা চালানো হয়েছিল সে কায়দায় আজকে ঘোষণা দিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে আব্দুল ওয়াহেদ। সে বার বার আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে। আমি একাধিকবার তার বিরুদ্ধে জিডি করেছি।” বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আলোচনা অনুষ্ঠানের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সড়কে অবস্থান নিয়েছে মন্তব্য করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “বাহাদুর একজন সন্ত্রাসী, আমি তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রুহুল আমীন সাংবাদিকদের জানান, “এমপি মহোদয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব। বিক্ষুদ্ধরা যে দাবি তুলেছেন সেটিও আমরা দেখব।” জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।