আতিয়ারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এতিম শিশুদের ধর্মীয শিক্ষা ব্যবস্থা

 

 

আবেদ আলী স্টাফ রিপোর্টার ঃ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য আর এতিম শিশুদের জন্য এখনও রয়েছে কিছু স্বহৃদয়বান ব্যক্তি। এ অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত ঝড়ে পড়া এতিম শিশু। যারা হারিয়েছে তাদের বাবা কিংবা মাকে। অর্থাভাবে নিরক্ষরতার কবলে বন্দী, তাদের আশ্রয় দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এক দরদী মনের মানুষ মৌলভী আতিয়ার রহমান। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের মন্তের ডাঙ্গা এলাকার মৃত পরম আলীর ছেলে আতিয়ার রহমান (৬৫)। পেশায় তিনি ছিলেন, মসজিদের ঈমাম। মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম হলেও নিজের জন্য কোনও চাওয়া পাওয়ার নেই। এলাকার ঝড়ে পড়া এতিম শিশুদের কথা চিন্তা করে তিনি স্বপ্ন দেখতেন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা তৈরির। তাই তিনি ঈমামতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করে যা পেতেন সেখান থেকে কিছু করে সঞ্চয় করেন এবং তার সঞ্চয়কৃত টাকায় উপজেলার ভাগ্য বিলম্বিত বিপন্ন পিতৃমাতৃহীণ শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আতিয়ার রহমান ওই এলাকায় ৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেখানে একটি কুড়েঘর তুলে নামকরণ করা হয় মদিনাতুন উলুম নামের হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজ সেই প্রতিষ্ঠানটি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত জীবনে আতিয়ারের স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। সংসারের বোঝা তার ছেলের ঘারে দিয়ে এতিম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। ৭ জন এতিম শিশুকে দিয়ে শুরু করা এই এতিমখানায় এখন ঠাই মিলেছে ৭০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মৌলভী আতিয়ার রহমান জানান, ২০০০ সালে এলাকার ৭জন এতিম ছেলেদের নিয়ে একটি ঘুড়ে ঘর দিয়ে এর যাত্রা শুরু করি। বর্তমানে ৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। এর আগে ২০জন শিক্ষার্থী কোরআনে হাফেজ হয়েছে। শত প্রতিকুলতার মাঝেও হাঁটিহাঁটি পা পা করে বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে এই প্রতিষ্ঠাটির ৫ম তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ রাশেদুল হক প্রধান। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি চালাতে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ৬ শিক্ষকের মাসিক বেতন দিতে হয় ২৬ হাজার টাকা। আতিয়ার আরোও জানান, দিন যতই যাচ্ছে ততোই বাড়ছে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সমস্যা। এদিকে অর্থ সংকটের কারণে ৫ম তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। অসহায় গরীব ঘরের এতিম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আতিয়ার রহমান।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।